হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মঙ্গলপুর গ্রামে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক যুবককে কারাদণ্ড দেওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে চাচা নিজের ভাতিজা সুধারাম সরকারকে ‘পাগল’ ও ‘মাদকাসক্ত’ সাজিয়ে পরিকল্পিতভাবে সাজা পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
অভিযোগ অনুযায়ী, সুধারাম সরকারকে মাদক আইনে তিন মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানা দেওয়া হয়। তবে এ মামলার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে তার বাবার জাল স্বাক্ষর। অভিযুক্ত চাচা নিজের ভাইয়ের স্বাক্ষর জাল করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আবেদন করেন বলে জানা গেছে।
আইনজীবীরা বলছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৬৩, ৪৬৪, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় (জালিয়াতি ও জাল দলিল ব্যবহার) গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ অনুযায়ী, অপরাধ অবশ্যই তাৎক্ষণিকভাবে সংঘটিত হতে হবে এবং হাতেনাতে প্রমাণ থাকতে হবে।
একইভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী, মাদকসহ বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক না করলে শাস্তি দেওয়ার বিধান নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ- সুধারামকে হাতেনাতে আটক করা হয়নি
তার কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি বরং তাকে মারধর করে জোরপূর্বক দোষ স্বীকার করানো হয়েছে। এ ঘটনাকে তারা সংবিধান লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, এটি বাংলাদেশের সংবিধান-এর ৩১ ও ৩৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ন্যায়বিচার ও আইনের আশ্রয় পাওয়ার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সোহেল মাহমুদ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ ও ‘আইনের অপব্যবহার’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি- সুধারাম সরকারের নিঃশর্ত মুক্তি, জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলো সঠিক হলে এটি শুধু একটি পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং আইনের অপপ্রয়োগের গুরুতর দৃষ্টান্ত। তাই দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা