শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ভোটারদের মধ্যে ৩০০ টাকা করে বিতরণকালে দুজনকে আটক করেছে স্থানীয়রা।
শনিবার (২১ মার্চ) রাতে উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ঘাগড়া দরগার পাড়ে এ ঘটনাটি ঘটে। আটক দুজন হলেন, আব্দুর রাজ্জাক ও মোরাদ মিয়া। তারা দুজনই জামায়াতের কর্মী।
পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনিন্দিতা রাণী ভৌমিক তাদের মুচালিকা নিয়ে ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদকের জিম্মায় দিয়ে যান।
আটক জামায়াতকর্মীরা বলেন, তাদের দলের পক্ষ থেকে ফেতরার জন্য দেওয়া ৫০ হাজার
টাকা ইউনিয়নের বিভিন্ন লোকের মধ্যে বিতরণ করছিলেন। আর মোবাইল নম্বর নেওয়ার কথাও স্বীকার করেন তারা।
বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, আগামী ৯ এপ্রিল শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত হওয়া ভোট হবে। এ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের পক্ষ থেকে মাথাপিছু ৩০০ টাকাসহ সেমাই-চিনি বিতরণ করা হচ্ছে।
শনিবার বিকাল থেকে ঝিনাইগাতীর হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ঘাগড়া দরগার পাড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা বিতরণ করার সময় ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদসহ স্থানীয় কয়েকজন মিলে জামায়াতকর্মী আব্দুর রাজ্জাক ও মোরাদ মিয়াকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। দলের পক্ষ থেকে ফেতরার ৫০ হাজার টাকা পেয়ে তা বিতরণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন আটক দুজন। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানালে তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনিন্দিতা রাণী ভৌমিককে ঘটনাস্থলে পাঠান।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিজ্ঞেসাবাদ শেষে অভিযোগটি গুরুতর এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় জেলা রিটার্নিং অফিসারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থীতাও বাতিল হতে পারে বলে জানান।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনিন্দিতা রাণী ভৌমিক জানান, আটক দুজনের কাছ থেকে মুচালিকা নিয়ে ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক পলাশ মিয়ার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের উপজেলার বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।