বিশ্ব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পথশিশুদের সুরক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করে ডা. মুবিন নিউবর্ন ফাউন্ডেশন।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ১০:৩০টায় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে ছিল আলোচনা সভা, পথশিশুদের দত্তক হস্তান্তর, “মিলস (HAM) আইসিইউ” উদ্বোধন এবং একটি সচেতনতামূলক র্যালি।
অনুষ্ঠানের প্রধান প্রতিপাদ্য ছিল—“পরিত্যক্ত নবজাতক সুরক্ষা: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়”।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, এমপি। তিনি বলেন, পরিত্যক্ত নবজাতকদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনে রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। এ বিষয়ে সরকার পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো পথশিশুদের জন্য বাংলাদেশে একটি বিশেষায়িত নবজাতক হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ “মিলস (HAM) আইসিইউ” ইউনিট উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে গুরুতর অসুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য নিবিড় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ ও প্রযুক্তি কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি। তিনি সমাজের অসহায় শিশুদের সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রমা বাঁই (বীর রহমত ভূপু), নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. এ এফ এম মুজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন মুহূর্তে তিনজন পথশিশু—ফালাক, আনাবিয়া ও মিন্নাহকে আনুষ্ঠানিকভাবে পালক পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যা উপস্থিত সবার মধ্যে গভীর মানবিক অনুভূতির সৃষ্টি করে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মুবিন নিউবর্ন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. মো. মবিউর রহমান বলেন, “সমাজের প্রতিটি পরিত্যক্ত নবজাতক আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। একটি শিশুকে বাঁচানো মানে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা।”
তিনি জানান, ফাউন্ডেশনটি এ পর্যন্ত ৬২ জন নবজাতককে উদ্ধার করে চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিরাপদ পরিবারে হস্তান্তর করেছে। এছাড়া ১৫ জন শিশুর জটিল রোগের সফল চিকিৎসাও সম্পন্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা “হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক” স্থাপন, “নিউবর্ন হাব” প্রতিষ্ঠা এবং দত্তক প্রক্রিয়া সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শেষে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে একটি সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। “পথশিশুরা আপনজন, হবে না কেউ অবহেলিত”—এই স্লোগানে র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানান