
শিক্ষার্থীদের একঘেয়েমি দূর করে পুঁথিগত জ্ঞানের বাইরে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে দিনব্যাপী বার্ষিক শিক্ষা সফরের আয়োজন করেছে সুলতানুল আরেফীন ক্যাডেট মাদ্রাসা (দাখিল)।
গত ১ এপ্রিল (বুধবার) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ শিক্ষা সফরে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করে দিনব্যাপী আনন্দঘন ও শিক্ষণীয় সময় কাটায়।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক, বাংলাদেশ তরীকত পরিষদ (বিটিপি)-এর কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম মেম্বার এবং রাহে ভান্ডার সিলসিলার গ্র্যান্ড শায়খ হযরত ছূফি ছৈয়দ আল্লামা জাফর ছাদেক শাহ (মা:)’র অনুমতিক্রমে আয়োজিত এ সফরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
প্রিন্সিপাল মুফতি মৌলানা মোহাম্মদ আবুল কাশেম (মা:)’র নেতৃত্বে এবং ভাইস-প্রিন্সিপাল মুফতি মৌলানা মোহাম্মদ তানভীরুল ইসলামের পরিচালনায় সকাল ৮টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত বাসে সফর শুরু হয়। এতে শিশু শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
সফরের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা ফয়েসলেক, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, ডিসি পার্ক এবং বঙ্গবন্ধু টানেল পরিদর্শন করে। প্রতিটি স্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত ধারণা দেন।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি দেখে শিক্ষার্থীরা আনন্দিত হয়। এছাড়া সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট এলাকায় অবস্থিত ডিসি পার্কের নয়নাভিরাম ফুল ও সবুজ প্রকৃতি সবার মন কাড়ে।
দুপুরের খাবারের পর আয়োজন করা হয় কুইজ প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। লাকি কুপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যা পুরো সফরে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল বলেন, “শিক্ষা সফর শুধু বিনোদন নয়, এটি শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।”
দিনের শেষভাগে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেল অতিক্রম করার সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। ভ্রমণের পুরো সময়জুড়ে শিক্ষার্থীরা কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত পরিবেশনের মাধ্যমে আনন্দঘন পরিবেশ বজায় রাখে।
দিনশেষে হাসি-আনন্দ আর নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে সন্ধ্যার আগেই শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে আসেন। এক আনন্দঘন ও শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের শিক্ষা সফর।