
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানা জ্বালিয়ে দেওয়ার বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে হবিগঞ্জ শহর থেকে তাকে গ্রেফতার করে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে তাকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়।
গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকর্মী হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে জড়ো হয়ে গ্রেফতারের প্রতিবাদে স্লোগান দেন।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম বলেন, “শনিবার রাত ৮টার দিকে মাহদী হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
এদিকে, শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে মাহদী হাসানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত শোকজ চিঠিটি শনিবার দুপুরে তাকে পাঠানো হয় এবং সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হাসান নয়নকে শায়েস্তাগঞ্জ থেকে আটক করা হয়। পরে আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার জেরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান বিষয়টি নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে কথা বলতে যান। ওই সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তিনি ওসির উদ্দেশ্যে “বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দিয়েছি”-এমন বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই বক্তব্যের ভিডিও তিনি নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনের সময় ৫ আগস্ট বানিয়াচংয়ে পুলিশের গুলিতে ৯ জন শহীদ হন। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা বানিয়াচং থানা জ্বালিয়ে দেয়। ওই ঘটনায় বানিয়াচং থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ নিহত হন এবং থানা সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়।