বগুড়ার লাচ্ছা সেমাই উৎপাদন কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্বাস্থ্যকর পোড়া তেল, ক্ষতিকারক রাসায়নিক রং মেশানো খাদ্য সামগ্রী জব্দ ও ব্যবসায়ীর জরিমানা করেছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঈদ সামনে রেখে কয়েকমাস আগে থেকেই কথিত কারখানায় তোড়জোড় চলছিল।
আজ রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ এটিসি। এরআগে, শনিবার সদর উপজেলার ফুলবাড়ি মধ্যপাড়া এলাকার সারাবেলা লাচ্ছা সেমাই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত ৬০ কেজি অস্বাস্থ্যকর তেল ও প্রায় ৯০ মন ক্ষতিকারক রং মিশিয়ে উৎপাদিত লাচ্ছা সেমাই জব্দ করে র্যাব।
কারখানার নারী উদ্যোক্তার (ব্যবসায়ী) ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ডাদেশ দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ। জব্দকৃত লাচ্ছা সেমাই ধ্বংস করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে অর্থদন্ডিত নাদিরা সুলতানা (৪৭) বগুড়া সদরের ফুলবাড়ি মধ্যপাড়ার নজরুল ইসলামের মেয়ে।
সরেজমিনে বগুড়া শহর ও গ্রামীণ জনপদে সেমাই উৎপাদনের অসংখ্য কারখানা দেখা যায়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়া প্রতিবছরই দেখা যায়। প্রশাসনের অভিযানে জরিমানা হয়, তবুও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। মেঝেতে ময়দা ফেলে পায়ের তলায় মাড়িয়ে খামির তৈরি চলছে। নিম্নমানের ময়দার ডো তৈরি, অনুমোদনহীন রাসায়নিক রং, ডালডা গলানো, পোড়া তেল ব্যবহার করে সেমাই উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। বেশির ভাগ কারখানার অনুমোদন নেই। এখানকার চিকন ও লাচ্ছা সেমাই গোটা উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।