ঝকঝকে হাসি, পুরু ঠোঁট, ধূসর চোখের মায়াবী আবেদন—নেট ভুবনে তাকে সবাই চেনেন ‘সরসরাইট গার্ল’ হিসেবে। তিনি সামাজিকমাধ্যম টিকটক তারকা আলিনা আমির। পাকিস্তানি এই তরুণী তার মনোমুগ্ধকর হাসি ও সৌন্দর্য দিয়ে নেটপাড়ায় রীতিমতো ঝড় তোলেন। আলিনা আমির বিভিন্ন গানের সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়েই জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে গেছেন। শুধু জনপ্রিয়তাই নয়, লিপ সিংয়ের মাধ্যমে বছরে তার আয় কোটি টাকার ওপরে।
কখনও পথে চলন্ত অবস্থায়, কখনও সোফায় আরামে বসে, কখনও বা বিলাসবহুল গাড়ির ভেতরে তার ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপে মুগ্ধ নেটিজেনরা। শুধু ঠোঁট মিলিয়ে গানই নয়, বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা, অভিব্যক্তি ও মার্জিত সাজপোশাকে লাখ লাখ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
পাকিস্তানি এই ইনফ্লুয়েন্সার, টিকটকারের প্রোফাইল থেকে পোস্ট করা ভিডিও গড়ে ৮ লাখ ৮৪ হাজার বার দেখা হয়েছে। আলিনার নিজস্ব চ্যানেলটি তার ট্রেন্ডিং লিপ সিঙ্ক রিল, সৌন্দর্যসামগ্রী, ফ্যাশন টিপস এবং অন্যান্য বিষয়ের জন্য জনপ্রিয়।
৫ ফুট ৮ ইঞ্চির আলিনা তার সৌন্দর্য, সুন্দর টানা চোখ এবং বিষয়বস্তু দিয়ে সবার মন জয় করে নিয়েছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, পাকিস্তানি এই নেটপ্রভাবী প্রতি পোস্ট থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলারের বেশি আয় করেন। শুধু টিকটক থেকেই তার বার্ষিক আয় ২ লাখ ৮৭ হাজার ডলার বা ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।
সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়ার সিনেমার একটি সংলাপ ‘মেরি বডি মে সেনসেশন হোতে হ্যায়’ দিয়ে রিল তৈরি করে তোলপাড় ফেলে দেন। পাকিস্তানি সুন্দরীর ভিডিওটি ভারতেও ব্যাপক সাড়া ফেলে। আলিনা আমির রূপের ঝলক, মনমোহিনী হাসি আর বুদ্ধিমত্তা দিয়ে উপমহাদেশের ‘সেনসেশন’ হয়ে উঠেছেন।
প্রথম দিকে হিন্দি বা পাঞ্জাবি বিভিন্ন জনপ্রিয় গানে ঠোঁট মেলানো ভিডিওগুলো তাকে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল। সামাজিকমাধ্যমে লিপ সিঙ্ক ট্রেন্ডটি সাধারণ মানুষকে বাড়তি আগ্রহী করে তোলে। তবে আলিনার বিষয়বস্তুগুলো একটু ব্যতিক্রম বলেই হু-হু করে বাড়তে থাকে অনুগামীর সংখ্যা।
এই সময়ে নেট দুনিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা আলিনা আমিরের টিকটকে সাড়ে ৯ লাখের বেশি ভক্ত রয়েছেন। ইনস্টাগ্রামেও ২৫ লাখের বেশি অনুগামী তাকে অনুসরণ করেন।
পাকিস্তানের লাহোরের বাসিন্দা আলিনা আমিরের জন্ম ২০০৩ সালের ১ মে। ছোটবেলা থেকেই অভিনয় ও মডেলিংয়ের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। পরিবারের সমর্থনও পেয়েছেন অবলীলায়। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও স্বপ্নপূরণে বাধা হয়ে ওঠেনি আলিনার পরিবার।
মডেলিং জগতে আসার পরই অভাবনীয় সৌন্দর্য ও বুদ্ধিমত্তায় নজর কাড়েন। দ্রুতই বেশ কিছু নামি ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসাডর হন আলিনা। সামাজিকমাধ্যমে আলোড়ন তুললেও আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অভিনয়ে সেভাবে সাড়া জাগাতে পারেননি। তাই বড়পর্দা বা ছোটপর্দা থেকে কিছুটা দূরে থেকে ছোট ক্যামেরাকে সঙ্গী করেই হয়ে উঠেছেন জনপ্রিয় তারকাদের একজন। সামাজিকমাধ্যমের বিভিন্ন ট্রেন্ড অনুসরণ করে ও অ্যালগরিদম মেনে রিল বা ভিডিও তৈরি করে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।