
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাছিরনগর উপজেলায় নির্বাচনী প্রতিহিংসার জেরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র একটি অফিস ও সমর্থকের বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন-এর নরহা মধ্য গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি সমর্থক নাছির মিয়ার দোকানঘরটি দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
শুক্রবার (১৩ তারিখ) সন্ধ্যায় একই গ্রামের ঘোড়া মার্কা সমর্থিত লাল খা মিয়ার ছেলে হাকিম, জামাল ও শাহ আলমের নেতৃত্বে প্রায় ৬০–৭০ জন দেশীয় অস্ত্র, দা, লাঠি, বল্লম, শাবল ও রড নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় দোকান, অফিস ও বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
ভুক্তভোগী নাছির উদ্দিন জানান, নির্বাচনে নরহা কেন্দ্রে ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয়লাভ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দোকান থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয় এবং তার টিনের ঘরে ঘণ্টাব্যাপী হামলা চালিয়ে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। এমনকি বিদ্যুতের মিটারও ভেঙে ফেলা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাণভয়ে ঘরে আশ্রয় নিলে চারদিক থেকে দা ও লাঠি দিয়ে আক্রমণ চালানো হয়। পরে বিষয়টি জানানো হলে হরিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী জামাল মিয়া, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জামাল সর্দারসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা এসে তাকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় নাছির উদ্দিনের বড় ভাই মাফুজ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের আগের দিন তাদের বাড়ির পাশ থেকে অন্তত ৩৬টি মাঝারি আকারের কাঠ ও ফলজ গাছ কেটে নেওয়া হয় এবং পুকুরের মাছ চুরি করা হয়। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগ থেকেই ধানের শীষে ভোট দিলে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল হামলাকারীরা।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।