
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ভোটারদের ভাবনা এবং নির্বাচন ব্যবস্থার বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি গবেষণা ও পর্যবেক্ষণমূলক সংস্থা পাবলিক ইন্টেগ্রিটি নেটওয়ার্ক (পাইনেট)-এর উদ্যোগে সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
‘দ্রব্যমূল্য ও ভোটার ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক চর্চার সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। ভোটারদের আস্থা পুনর্গঠন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ লাঘব—এই দুই বিষয়কে সমান গুরুত্ব না দিলে গণতন্ত্রের সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেন।
আলোচনায় উঠে আসে, ভোটারদের একটি বড় অংশ এখন রাজনৈতিক বক্তব্য বা প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা—এসব বিষয়ই ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধান ভূমিকা রাখছে। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগের অভাব ভোটারদের মধ্যে হতাশা ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা বাড়াচ্ছে বলে মত দেন বক্তারা।
গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ. এম. মোশাররফ হোসেন।
এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. শিব্বির আহমেদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ভূঁইয়া, সাবেক সচিব সালেহা আফরোজ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিআইজিএম)-এর সহযোগী অধ্যাপক ড. জোবায়ের আহমেদ এবং অপরাজিতা বিডির সম্পাদক আকলিমা ফেরদৌসী।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, ক্যাব-এর নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহা. শওকত আলী খান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, সেক্টরাল সিমিলার নারী প্রণয়ন-এর ড. ফেরদৌস আরা খানম (বকুল) এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মামুন।
বক্তারা বলেন, কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য। ভোটারদের আস্থা পুনর্গঠন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা বাড়ানো জরুরি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভোটার উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
গোলটেবিল বৈঠক থেকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানানো হয়।