
জামায়াতে ইসলামী কি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২৬টি আসনে প্রার্থী দিচ্ছে এই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় জামায়াতের নির্বাচনী কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ইসলামী দলগুলো নির্বাচনী মাঠে ‘এক বাক্স’ নীতিতে অগ্রসর হলেও শেষ পর্যন্ত সেই ঐক্য ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ দেনদরবার ও নাটকীয়তার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ঐক্যবদ্ধ জোট ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে মোট ২৫৩টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল।
জোটের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, শেষ মুহূর্তে ওই ৪৭টি আসন ইসলামী আন্দোলনকে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর ফলে ফাঁকা রাখা আসনগুলোতে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এই ৪৭টি আসনে প্রার্থী দিলে জামায়াতে ইসলামীর মোট নির্বাচনী আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ২২৬টিতে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটি ১৭৯টি আসনে এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিল।
জোটের শরিকদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ও নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি করে আসনে প্রার্থী দেবে।
অন্যদিকে, জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) কোনো আসনে প্রার্থী না দিলেও নির্বাচনী ঐক্যের অংশ হিসেবে জোটে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলনের সরে দাঁড়ানো জামায়াতের জন্য যেমন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি ভোট ভাগ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। এখন ২২৬ আসনে জামায়াত কতটা সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন কাজে লাগাতে পারে, সেটিই হয়ে উঠবে মূল চ্যালেঞ্জ।