খুলনায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে তাতীদল ১০ নং ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ সোনামিয়া নিহত হয়েছেন। শনিবার রাত ১২ টা ৫ মিনিটের দিকে খালিশপুর নয়াবাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ এখোনোও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
নিহত সোনামিয়া নয়াবাটি এলাকায় বাসিন্দা জব্বার সরদারের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, খালিশপুর নয়াবাটি এলাকায় তার একটি ভ্যারাইটিস স্টোর ছিল। প্রতিদিন গভীর রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফিরে যেতেন তিনি।
শনিবার রাত ১২ টা ৫ মিনিটের দিকে একটি মোটরসাইকেল তিনজন যুবক এসে তার ওপর হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ডান হাতের বাহুতে দুটি আঘাত করে। ঔই আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। খালিশপুর থানার এসআই পলাশ কুমার রায় বলেন, রাত ১২ টার কিছুক্ষন পর ঘটনাটি ঘটলে আমাদের ১২ টার পর জানানো হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে খালিশপুর ক্লিনিক নেয়।
পরে অবস্থা খারাপ হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়৷ সোনামিয়ার মরদেহ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে মর্গে প্রেরন করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানাগেছে, তিনি ১০ নং ওয়ার্ড তাতীদলের সভাপতি ছিলেন।
কেএমপির উপ- পুলিশ কমিশনার উওর সুদর্শন কুমার রায় বলেন, সোনামিয়া গত রাতে দোকানে বসা ছিলেন। একটি মোটরসাইকেল আসা তিনজন যুবক তার ডান হাতের বাহুতে ধারালে অস্ত্র দিয়ে পর পর দুটি আঘাত করে। এরপর দোকান ছেড়ে দৌড় দিয়ে পাশ্ববর্তী একটি কোম্পানির গোডাউনে আশ্রয় নেয়। সেখানে জ্ঞানহীনভাবে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে খালিশপুর ক্লিনিক এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানাগেছে।
এদিকে খুলনা -৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম আজ সকালে নিহত সোনামিয়ার পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দেবার জন্য তার নয়াবাটিস্থ বাড়িতে যান। পরিবারের সদস্যরা হুইপকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেখানে এক হ্নদয় বিদারক দৃশ্যর সৃষ্টি হয়। হুইপ রকিবুল ইসলাম নিহতের পরিবারকে শান্তনা দেন এবং জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করে গ্রেফতার করার জন্য আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দেন।