রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রক্ষা ও শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে খুলনা ও যশোর আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
১২ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভ শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। স্মারকলিপিতে বন্ধ থাকা পাটকলের যন্ত্রাংশ চুরি, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, এবং লুটপাটের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
স্বারকলিপির দাবি, পাটকল চালু: বন্ধ হওয়া পাটকলগুলো পুনরায় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় চালু করা। লিজ প্রথা বাতিল: শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ ও লিজ প্রথা বন্ধ করা। চুরি ও লুটপাট বন্ধ: যন্ত্রাংশ চুরি এবং টেন্ডারের নামে লুটপাটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। দুর্নীতির বিচার: রাষ্ট্রীয় পাটকল ধ্বংসে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। শ্রমিকদের পুনর্বাসন: উচ্ছেদ হওয়া শ্রমিকদের মিলের ভেতরে বসবাসের ব্যবস্থা। বকেয়া পরিশোধ: ২০১৫ সালের ঘোষিত মজুরি কমিশনের বর্ধিত বেতন ও বোনাস দ্রুত পরিশোধ। মামলা প্রত্যাহার: শ্রমিকদের বিরুদ্ধে করা সকল মামলা প্রত্যাহার।
২০২০ সালের ৩০ জুন, সরকারের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে করোনাকালীন সময়ে ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন বন্ধ করা হয়। এতে লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়ে চরম দুর্দশায় পড়ে। কেউ রিকশা চালানো, কেউ দিনমজুরি এমনকি ভিক্ষাবৃত্তিতে নামতে বাধ্য হন।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, পাটকল বন্ধের মাধ্যমে রাষ্ট্র নিজেই শ্রমিকদের জীবনকে সংকটে ঠেলে দিয়েছে। অন্যদিকে বিজেএমসির অধীনে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বছরের পর বছর বসে থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ শমসের আলম, আহ্বায়ক, খুলনা-যশোর আঞ্চলিক কমিটি, আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য সচিব, মোঃ গিয়াস উদ্দিন, মোঃ শামিম আহম্মেদ, ওলিয়ার রহমান, খুলনা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারী মোঃ আলামিন শেখ প্রমুখ।
খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
বিক্ষোভে শ্রমিক নেতারা রাষ্ট্রীয় পাটকল পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ রক্ষার দাবি জানান।