খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মাল্যদান করেন কয়েকজন নেতাকর্মী। গতকাল রবিবার বিকালে নগরীর শংখ মার্কেটে অবস্থিত কার্যালয়ে প্রবেশ করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামিলীগের নেতাকর্মীরা। গনঅভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোল করেন। এসময় তারা "জয় বাংলা" শ্লোগান দেন। এঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের তৎপরতার প্রতিবাদে রবিবার রাতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়।। এছাড়া কার্যালয়ে ভাংচুর এবং কাঠের দরজা ও কাগজপত্র আগুনে জালিয়ে দেন তারা। একপর্যায়ে আগুন নিভে যায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, রোববার বিকালে ১০-১৫ জনের একটি দল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এরপর তারা শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পন করে তড়িঘড়ি করে অফিস ত্যাগ করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে কয়েকজন ছাত্র আওয়ামিলীগ কার্যালয়ে উঠে অগ্নিসংযোগ করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামিলীগ নেতাকর্মীরা জানান, দলীয় নির্দেশনা নয়, তৃনমুলের কর্মীদের উদ্যোগেই রোববার বিকালে কার্যালয়ে গিয়েছি। আমরা কোন আলাদা আয়োজন করে দলীয় কার্যালয়ে যায়নি। দেখলাম আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এটা হয়েছে, তাই খুলনাতেও আনরা গেছি। কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল, সেটা ভেঙে উপরে উঠে জাতীয় পতাকা টাঙ্গিয়েছি। শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিয়েছি। জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে নিচে নেমে কার্যালয়ে নতুন একটি তালা লাগিয়ে চলে আসি, যাতে পরে আমরা ঢুকতে পারি। কেউ বাঁধা দেয়নি।
খুলনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কবির হোসেন বলেন, খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যালয়টিতে বিকেলের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি খুলেছিল। এটি আমরা জানতে পেরে আশপাশে বিভিন্ন স্থাপনার সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই - বাছাই করছি। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিকালে ঘটনার পর রাতে কয়েকজন বিক্ষুদ্ধ ছাত্র এসে অগ্নিসংযোগ করে। টানানো দুটো ছবি ভেঙে ফেলে। পরবর্তীতে তারা আগুন নিভিয়ে ফেলে। বিষয়টি আমরা গভীরভাবে দেখছি।