দিনাজপুর অঞ্চলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর সম্ভাব্য আগমনকে সামনে রেখে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় অনুষ্ঠিতব্য খাল খনন কর্মসূচি সফল করতে প্রস্তুতি সভা করেছে খানসামা উপজেলা বিএনপি।
শনিবার খানসামা উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রস্তুতিমূলক সভায় দলের নেতাকর্মীরা কর্মসূচি বাস্তবায়নের সার্বিক প্রস্তুতি, নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন খানসামা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বিএসসি। তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি উদ্যোগ। এলাকার বহু খাল দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ভাবকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল আলম তুহিন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে কৃষি ও পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সাইদ আহমেদ সেলিম বুলবুল, মোঃ সফিকুল ইসলাম, গোয়ালডিহি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন লিটনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
নেতৃবৃন্দ জানান, আগামী ১৬ মার্চ কাহারোল উপজেলায় অনুষ্ঠিতব্য খাল খনন কর্মসূচিতে ব্যাপক নেতাকর্মী সমাগম ঘটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর অঞ্চলের অনেক খাল ও জলাশয় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও কৃষি জমি ক্ষতির মতো সমস্যা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে খাল খনন উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম সক্রিয় করার কৌশল হিসেবেও এই ধরনের উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।