কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬ জনে পৌঁছেছে। দুটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে এ তথ্য জানায় রয়টার্স। উদ্ধার কার্যক্রম এখনও চলছে। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর হতাহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন কলম্বিয়ার পুতুমায়ো বিভাগের গভর্নর জন গ্যাব্রিয়েল মলিনা।
দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজটি লকহিড মার্টিনের তৈরি হারকিউলিস সি ১৩০ মডেলের। পেরু সীমান্তবর্তী পুয়ের্তো লাগুইজামো এলাকা থেকে উড্ডয়নের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের সময় রানওয়েতে কিছু একটার সঙ্গে ধাক্কা লেগে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর উড়োজাহাজের ডানা একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
উদ্ধারকারী কর্মকর্তা এদুয়ার্দো সান হুয়ান কাইয়েখাস জানান, দুর্ঘটনায় বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং বিস্ফোরিত হয়।
দুর্গম এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের পেছনে আহতদের বহন করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়রা।
পরে সামরিক বাহিনীর উদ্ধারকারী যান ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়।
কলম্বিয়া বিমানবাহিনী জানায়, উড়োজাহাজটিতে ১২১ জন আরোহী ছিলেন। এরমধ্যে ১১০ জন সৈন্য ও ১১ জন ক্রু। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া হিসাবের সঙ্গে এই সংখ্যার কিছুটা অমিল রয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে বিমানে মোট আরোহী ছিলেন ১২৫ জন।
উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর অবিলম্বে সামরিক বাহিনী আধুনিকায়নের ওপর জোরারোপ করেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘সামরিক বাহিনী আধুনিকায়নে আর দেরি করা যাবে না। আমাদের তরুণদের জীবন ঝুঁকিতে।’
গত ফেব্রুয়ারির শেষে বলিভিয়ায়ও একই মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় ২০ জনের বেশি নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরপর একই মডেলের দুটি দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনা তদন্তে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
১৯৫০ এর দশকে হারকিউলিস সি ১৩০ মডেলের বিমান প্রথম চালু হয়। ১৯৬০ এর দশকের শেষ দিকে এই মডেল সংগ্রহ করে কলম্বিয়া। দেশটিতে প্রায়ই সেনা পরিবহনে এ ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহৃত হয়।