
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে এনসিপির সম্ভাব্য সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় চার নেতাসহ পাঁচজন পদত্যাগ করেছেন।
এদের মধ্যে তাজনূভা জাবীন, খালেদ সাইফুল্লাহ এবং ফেনী-৩ আসনের মনোনীত প্রার্থী আবুল কাশেম পদত্যাগ করেছেন। তাজনূভা জাবীন ও খালেদ সাইফুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তাজনূভা জাবীন ফেসবুকে লিখেছেন, “আমি আজ এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছি। অত্যন্ত ভাঙা মন নিয়ে জানাচ্ছি, আমি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি না। এখানে ন্যূনতম আশা থাকলে আমি আমার আত্মসম্মানবোধকেও ঝুঁকি দিতাম না। আমি জামায়াতের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যুক্ত হতে পারি না।”
ফেনী-৩ আসনের মনোনীত প্রার্থী আবুল কাশেম বলেন, “নীতিগত কারণে এনসিপি থেকে পদত্যাগ ও নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপি যে রাজনৈতিক সমঝোতায় যুক্ত হয়েছে, তা আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন পদত্যাগ না করলেও এনসিপির সমালোচনা করেছেন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “জামায়াতে ইসলামীর সংবাদ সম্মেলন থেকে জানতে পারলাম, এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে। এটি তৃতীয় শক্তি তৈরির মূলধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমি এনসিপির এত দিনের সব বক্তব্যকে স্বাগত জানাই।”
এনসিপির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ফেসবুকে জানিয়েছেন, “যেহেতু দলের পজিশন পরিবর্তন হয়েছে, তাই আমি নিজেকে নির্বাচন থেকে প্রত্যাহার করছি।”
এছাড়া, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুম দলীয় কার্যক্রমে নির্বাচনী সময়ে নিষ্ক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আজ ২৮ ডিসেম্বর, জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটে অংশগ্রহণের কারণে আমি প্রাথমিকভাবে পার্টির সব কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থাকছি এবং পুনর্বিবেচনাক্রমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।”
এই পদত্যাগ ও সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও জোট সংক্রান্ত উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।