
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ থেকে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের আলাদা হওয়ার পর ধর্মভিত্তিক দলগুলোর ভোট ‘এক বাক্সে’ আনার প্রচেষ্টা থমকে গেছে বলে মনে হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও অনৈক্য এতটাই দৃশ্যমান যে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অগ্রসর হওয়া কঠিন।
জামায়াত বলছে, তারা এখনো ‘এক বাক্স নীতি’ অনুসরণ করছে এবং সময় শেষ হয়নি। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন মনে করছে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না বলে যা ঘোষণা দিয়েছেন, তা আদর্শিক দূরত্ব তৈরি করেছে। এই দূরত্বই জোট গঠনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনী জোট না হলে উভয় দলই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে এই প্রচেষ্টা অন্তত দলগুলোকে আলোচনা-টেবিলে বসিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন ২৬৮ আসনে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ইসলামপন্থি দলগুলোর ভোট একত্র করার উদ্যোগ শুরু হয়। জামায়াত থেকে এ উদ্যোগ নেয়ার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বরিশালের চরমোনাইয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমিরের সাথে জামায়াত আমিরের সাক্ষাৎ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।
নির্বাচনী জোটের আসন বণ্টন ও আদর্শিক দূরত্ব নিয়ে মতবিরোধের কারণে ইসলামী আন্দোলন আলাদাভাবে নির্বাচন করবে বলে ঘোষণা দেয়। জোটের ভেতরে আসন বণ্টন ও জামায়াতের আচরণ তাদের ক্ষুব্ধ করেছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থি ভোটারদের প্ররোচনা ও শরিয়াহ আইন নিয়ে বিতর্ক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, “ইসলামের সঠিক ধারা বজায় রাখতে আমাদের ওপর জনতার আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য দিতে হবে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও ‘ওয়ান বক্স’ নীতি কার্যকর না হলেও জামায়াত বা জোটের জন্য তা সম্পূর্ণ ক্ষতিকর হবে না। তবে নির্বাচনী জোট না হলে উভয় দলই কিছু আসনে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।