যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরাকের রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইরান। নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জট কাটাতে এবং মিলিশিয়া দলগুলোকে এক করতে হাঠাৎ বাগদাদে সফর করেছেন ইরানের প্রভাবশালী কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি।
ইরাকি সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজের বরাতে সোমবার (২০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তকরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর এটিই কানির ইরানের বাইরে প্রথম সফর। বার্তা সংস্থা এএফপি-র তথ্যমতে, গত ৮ এপ্রিল থেকে কানি বাগদাদে অবস্থান করছেন।
শিয়া মিলিশিয়াদের মূল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত কানি। বাগদাদ সফরে প্রথমে তিনি মিলিশিয়া নেতাদের সঙ্গে এবং পরে আলাদাভাবে শিয়া কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক-এর নেতাদের সেঙ্গ বৈঠক করেন। এটি বাগদাদের পার্লামেন্টের বৃহত্তম ব্লক এবং ইরানপন্থী শিয়া দলগুলোর একটি জোট।
শাফাক নিউজ সূত্রের বরাতে জানায়, ইরাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করার জন্য সর্বসম্মত কোনো প্রার্থীর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন কানি। আলোচনায় মিলিশিয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা হয়েছে, যার মধ্যে তাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং রাজনৈতিক ও সশস্ত্র শাখাকে আলাদা করার প্রস্তাব রয়েছে।
জানুয়ারির নির্বাচনের পর এই জোট নুরি আল-মালিকিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন করতে চেয়েছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প সে সময় জোর দিয়ে বলেছিলেন, মালিকি ক্ষমতায় ফিরলে ওয়াশিংটন ইরাকে সব ধরণের সহায়তা বন্ধ করে দেবে। নুরি আল-মালিকি ২০০৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী এবং দুই দফায় ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ইরাকে ইরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে ইকোনমিক ফিউরি অভিযানের আওতায় এক দফা নিষেধাজ্ঞা ও পুরস্কার ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও কর্মীদের ওপর হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে সাতজন কমান্ডারকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
তালিকায় কাতায়েব হিজবুল্লাহ, হারাকাত আল-নুজাবা এবং আসায়িব আহল আল-হাক-এর মতো সংগঠনের নেতারা রয়েছেন।
এছাড়া কাতায়েব হিজবুল্লাহ নেতা আহমদ আল-হামিদাওয়ির বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তকরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট।