
অনেক বাবা-মা মনে করেন, ধন-সম্পদ ভোগ করার জন্য ছেলে সন্তানই বেশি উপযুক্ত। মেয়েরা যেন সেখানে দ্বিতীয় সারির মানুষ। বাস্তবে দেখা যায়, প্রায় ৭০ শতাংশ সুযোগ পায় ছেলে সন্তান, আর মেয়েরা পায় ৩০ শতাংশ কখনো তারও কম, কখনো কিছুই না। অথচ প্রশ্নটা খুব সহজ হওয়া উচিত ছেলে যদি সন্তান হয়, মেয়েও তো সন্তান।
আমি সমান সমান ভাগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতার কথা বলছি না। আমি বলছি অধিকার স্বীকার করার কথা। মেয়ের জন্ম যদি বোঝা মনে হয়, তবে জন্মের সময়ই কেন তাকে বাঁচিয়ে রাখা হলো? পেটে থাকতেই কেন শেষ করা হলো না? কথাটা কঠিন, কিন্তু বাস্তবতা আরও কঠিন। কারণ জন্মের পর তাকে মানুষ করা, ভালোবাসা দেওয়া, আর বড় হলে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, এটা এক ধরনের নীরব নিষ্ঠুরতা।
অনেকে বলেন, মেয়ে তো পরের বাড়ি যাবে, ছেলে থাকবে নিজের ঘরে, বয়সকালে দেখাশোনা করবে। কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই এমন? কিছু ছেলে করে, সবাই করে না। আবার সব মেয়েও শ্বশুরবাড়িতে সুখে থাকে না। তাহলে ভবিষ্যতের অনিশ্চিত সম্ভাবনার ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমানের অধিকার কেড়ে নেওয়া কতটা ন্যায্য?
আসলে সন্তানের কাছে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা সম্পদ নয়, ভালোবাসা আর দোয়া। আপনি মারা গেলে কে কাঁদবে? ছেলে হয়তো দাফনের কাজে ব্যস্ত থাকবে, কিন্তু মেয়েই বুক ফাটিয়ে কাঁদবে। এই কান্নাটাই প্রমাণ করে—সন্তান মানে শুধু উত্তরাধিকারী নয়, সন্তান মানে আবেগ, টান আর মায়া।
তাই প্রশ্নটা ছেলে-মেয়ে নয়, প্রশ্নটা ন্যায্যতা। আপনি ৩০ শতাংশে থামবেন কেন? অন্তত একটু বাড়ান। কারণ অধিকার তো অধিকারই সে আমার ফুফুর ক্ষেত্রেই হোক, আমার মায়ের ক্ষেত্রেই হোক। সন্তান মানে ভাগাভাগির বাইরে থাকা কেউ নয়।
যেদিন আমরা ছেলে-মেয়েকে আলাদা চোখে না দেখে শুধু সন্তান হিসেবে দেখতে শিখব, সেদিন হয়তো পরিবার আরও মানবিক হবে, সমাজও আরও ন্যায্য হবে।