ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাউজিং বাজার দোকান মালিক সমিতির আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা::
26

হাউজিং বাজার দোকান মালিক সমিতির আয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ৮ টায় খুলনা খালিশপুর হাউজিং বাজার ব্যবসায়ীদের আয়োজনে এ বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন, বিএনপি কেন্দ্রীয় সংসদের ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা – ৩ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বকুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির চেয়ারপারসন বা সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, তিনি দল- মত সব কিছুর উর্ধেব সারাদেশের মানুষের কাছে আপোষহীন নেত্রী ছিলেন। তার মৃত্যুর পর সারা বাংলাদেশের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেছে। আমি তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি।

বকুল বলেন, গনতন্ত্রের প্রথম সারিতে দাড়িয়ে যিনি মৃত্যকে জয় করে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে একটি মুল্যবান হচ্ছে ভোটের অধিকার, এই ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে, বড় বড় নেতাকর্মীদের গুম, খুন সহ অনেককে পঙ্গুত্ব বরন করতে হয়েছে। অনেক আলেম সমাজকে গুম হতে হয়েছে। এই ত্যাগের বিনিময়ে যে ভোট পেয়েছেন এই ভোট অনেক মুল্যবান। এই ভোটের জন্য যিনি সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন তিনি হলেন বেগম খালেদা জিয়া। বৃদ্ধ বয়সে এতটাই নির্যাতিত হয়েছেন, একপর্যায়ে তিনি মৃত্যুকে জয় করে ফেলেছেন। তিনি ছিলেন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক রাস্ট্রপতির সহধর্মিণী, চাইলে অনায়াসে আরাম – আয়েশে জাীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু তার একটি চাওয়া ছিল মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, আর এই অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে একটি সময় তিনি মৃত্যকে জয় করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ভালোবাসায় যাদের জন্ম,মৃত্যু তাদের স্পর্শ করতে পারে না। বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে নেই এই কথাটা আমরা ভাবতেও পারিনা, তিনি আমাদের মাঝে তার কর্মে থাকবেন আজীবন, আমাদের চলার পথে অনুপ্রেরনা। এমন নেত্রী বাংলাদেশে দ্ধিতীয় কেউ আসবে কিনা সন্দেহ। তার মৃত্যুতে দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষ কেঁদেছেন। শোকবার্তা জানিয়েছেন সয়ং শেখ হাসিনা সহ বিভিন্ন দেশের কুটনৈতিকরা।

তিনি বলেন, যে ভোটের অধিকারের জন্য তিনি লড়াই করে গেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সেই গুরুত্বপূর্ণ ভোট। এই ভোটকে অবহেলা করা যাবে না, কারন হিসেবে তিনি বলেন, আগামীদিনের অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ পুনরায় মিলগুলো খুলবে কিনা, শ্রমিক ভায়েরা বকেয়া পাওনা পাবে কিনা, মা- বোন ও ভাইদের কর্মসংস্থান হবে কিনা, আমাদের সন্তানেরা একটি সুন্দর পরিবেশ পাবে কিনা? এই ভোটের উপর সবকিছু নির্ভর করছে। সুতরাং যাকে তাকে ভোট দেওয়া যাবে না, ভোট একটি পবিত্র আমানত, দেখে, শুনে বুঝে, যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিবেন। আগামী ১২ তারিখ সিদ্ধান্ত নিতে হবে এই এলাকা থেকে মাদককে নির্মুল করতে হলে মিল গুলো খুলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করলে মাদক মুক্ত হবে। হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবকরা কর্মসংস্থানের অভাবে বিপর্যস্থ হয়ে মাদকের দিকে ধাবিত হচ্ছে, এই বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারলে সমাজ থেকে মাদক নির্মুল করা সম্ভব।

তিনি উল্লেখ করে বলেন, আমি এ এলাকার সন্তান, ছোটবেলা আমি এসব জায়গা ঘুরেছি, রাজনৈতিক কারনে আমাকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে কিন্তু এই শিল্পাঞ্চলের মানুষ বর্তমানে এতটাই দরিদ্র সীমার নীচে বসবাস করে সেটা আমি অন্য কোথাও দেখিনি। অথচ যখন নিউজপ্রিন্ট, হার্ডবোর্ড মিল সহ ২৫ টি পাটকল চালু ছিল, তখন এখানকার ব্যবসায়ীরা রমরমা ব্যবসা করেছেন। শ্রমিকের, ভাগ্যে ও এলাকার সকল উন্নয়নে আগামী ১২ তারিখ আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শিল্পাঞ্চল পুনরুজ্জীবিত চান, নাকি মৃত নগরীতে পরিনত হয়েছে এটা চান।

হাউজিং বাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি কোদাবক্স কোরাইশি কাল্লু সভাপতিত্বে ও ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান শিমুলের সঞ্চালনায় বক্তব্যে রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, সাবেক খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম, খুলনা মহানগর বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, খুলনা মহানগর বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহবায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ হোসেন, খালিশপুর থানা বিএনপি সভাপতি মোহাম্মাদ আলী বাবু, ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক এইচ, এম আবু সালেক, ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মো: জাহিদ হোসেন, হাউজিং বাজারের বিশিষ্ট ক্যাবল ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম, নওশাদ হোসেন, এসপিজিআরসি সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সেলিম নান্নু, খুরশিদ আলম লিটন, ব্যবসায়ী এজাজ আহম্মেদ, চিত্রালী বনিক সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন বাচ্চু, খোকা মিয়া, রফিকুল ইসলাম, যুবদল নেতা মো: লিটন, চিত্রালী বাজার ব্যবসায়ী রুহুল মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন সহ হাউজিং বাজারের অসংখ্য ব্যবসায়ীগন। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল ফালাহ মসজিদের মুফতি মাওলানা এবাদুর রহমান।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১১:০৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৫১৪ বার পড়া হয়েছে

হাউজিং বাজার দোকান মালিক সমিতির আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ১১:০৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
26

হাউজিং বাজার দোকান মালিক সমিতির আয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ৮ টায় খুলনা খালিশপুর হাউজিং বাজার ব্যবসায়ীদের আয়োজনে এ বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন, বিএনপি কেন্দ্রীয় সংসদের ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা – ৩ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বকুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির চেয়ারপারসন বা সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, তিনি দল- মত সব কিছুর উর্ধেব সারাদেশের মানুষের কাছে আপোষহীন নেত্রী ছিলেন। তার মৃত্যুর পর সারা বাংলাদেশের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেছে। আমি তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি।

বকুল বলেন, গনতন্ত্রের প্রথম সারিতে দাড়িয়ে যিনি মৃত্যকে জয় করে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে একটি মুল্যবান হচ্ছে ভোটের অধিকার, এই ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে, বড় বড় নেতাকর্মীদের গুম, খুন সহ অনেককে পঙ্গুত্ব বরন করতে হয়েছে। অনেক আলেম সমাজকে গুম হতে হয়েছে। এই ত্যাগের বিনিময়ে যে ভোট পেয়েছেন এই ভোট অনেক মুল্যবান। এই ভোটের জন্য যিনি সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন তিনি হলেন বেগম খালেদা জিয়া। বৃদ্ধ বয়সে এতটাই নির্যাতিত হয়েছেন, একপর্যায়ে তিনি মৃত্যুকে জয় করে ফেলেছেন। তিনি ছিলেন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক রাস্ট্রপতির সহধর্মিণী, চাইলে অনায়াসে আরাম – আয়েশে জাীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু তার একটি চাওয়া ছিল মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, আর এই অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে একটি সময় তিনি মৃত্যকে জয় করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ভালোবাসায় যাদের জন্ম,মৃত্যু তাদের স্পর্শ করতে পারে না। বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে নেই এই কথাটা আমরা ভাবতেও পারিনা, তিনি আমাদের মাঝে তার কর্মে থাকবেন আজীবন, আমাদের চলার পথে অনুপ্রেরনা। এমন নেত্রী বাংলাদেশে দ্ধিতীয় কেউ আসবে কিনা সন্দেহ। তার মৃত্যুতে দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষ কেঁদেছেন। শোকবার্তা জানিয়েছেন সয়ং শেখ হাসিনা সহ বিভিন্ন দেশের কুটনৈতিকরা।

তিনি বলেন, যে ভোটের অধিকারের জন্য তিনি লড়াই করে গেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সেই গুরুত্বপূর্ণ ভোট। এই ভোটকে অবহেলা করা যাবে না, কারন হিসেবে তিনি বলেন, আগামীদিনের অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ পুনরায় মিলগুলো খুলবে কিনা, শ্রমিক ভায়েরা বকেয়া পাওনা পাবে কিনা, মা- বোন ও ভাইদের কর্মসংস্থান হবে কিনা, আমাদের সন্তানেরা একটি সুন্দর পরিবেশ পাবে কিনা? এই ভোটের উপর সবকিছু নির্ভর করছে। সুতরাং যাকে তাকে ভোট দেওয়া যাবে না, ভোট একটি পবিত্র আমানত, দেখে, শুনে বুঝে, যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিবেন। আগামী ১২ তারিখ সিদ্ধান্ত নিতে হবে এই এলাকা থেকে মাদককে নির্মুল করতে হলে মিল গুলো খুলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করলে মাদক মুক্ত হবে। হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবকরা কর্মসংস্থানের অভাবে বিপর্যস্থ হয়ে মাদকের দিকে ধাবিত হচ্ছে, এই বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারলে সমাজ থেকে মাদক নির্মুল করা সম্ভব।

তিনি উল্লেখ করে বলেন, আমি এ এলাকার সন্তান, ছোটবেলা আমি এসব জায়গা ঘুরেছি, রাজনৈতিক কারনে আমাকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে কিন্তু এই শিল্পাঞ্চলের মানুষ বর্তমানে এতটাই দরিদ্র সীমার নীচে বসবাস করে সেটা আমি অন্য কোথাও দেখিনি। অথচ যখন নিউজপ্রিন্ট, হার্ডবোর্ড মিল সহ ২৫ টি পাটকল চালু ছিল, তখন এখানকার ব্যবসায়ীরা রমরমা ব্যবসা করেছেন। শ্রমিকের, ভাগ্যে ও এলাকার সকল উন্নয়নে আগামী ১২ তারিখ আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শিল্পাঞ্চল পুনরুজ্জীবিত চান, নাকি মৃত নগরীতে পরিনত হয়েছে এটা চান।

হাউজিং বাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি কোদাবক্স কোরাইশি কাল্লু সভাপতিত্বে ও ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান শিমুলের সঞ্চালনায় বক্তব্যে রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, সাবেক খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম, খুলনা মহানগর বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, খুলনা মহানগর বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহবায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ হোসেন, খালিশপুর থানা বিএনপি সভাপতি মোহাম্মাদ আলী বাবু, ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক এইচ, এম আবু সালেক, ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মো: জাহিদ হোসেন, হাউজিং বাজারের বিশিষ্ট ক্যাবল ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম, নওশাদ হোসেন, এসপিজিআরসি সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সেলিম নান্নু, খুরশিদ আলম লিটন, ব্যবসায়ী এজাজ আহম্মেদ, চিত্রালী বনিক সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন বাচ্চু, খোকা মিয়া, রফিকুল ইসলাম, যুবদল নেতা মো: লিটন, চিত্রালী বাজার ব্যবসায়ী রুহুল মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন সহ হাউজিং বাজারের অসংখ্য ব্যবসায়ীগন। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল ফালাহ মসজিদের মুফতি মাওলানা এবাদুর রহমান।