বাঘারপাড়ায় ১৩ বিঘা জমিতে কুলের বাম্পার ফলন

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের সৈয়দ মাহামুদপুর গ্রামের এক প্রান্তিক কৃষকের হাত ধরে সূচিত হয়েছে সম্ভাবনাময় এক কৃষি সাফল্যের গল্প। কৃষক মাজেদুল ইসলাম তার মেধা, আধুনিক পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রমে ১৩ বিঘা জমিতে আপেল কুল ও বল সুন্দরী কুলের বাম্পার ফলন ফলিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন।
দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত মাজেদুল ইসলাম, আব্দুল জলিল বিশ্বাসের ছেলে। পারিবারিকভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও তিনি নিজেকে প্রথাগত চাষাবাদের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখেননি। চলতি মৌসুমে তিনি তার বাগানে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি উন্নত জাতের কুলের চারা রোপণ করেন।
সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ, নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রতিটি গাছেই এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল-সবুজ রঙের নজরকাড়া কুল। তার বাগানে ঢুকলেই চোখে পড়ে সারি সারি ফলভর্তি গাছ, যা দেখার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন।
মাজেদুল ইসলামের এই সাফল্য কেবল তার নিজের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনই আনেনি, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বর্তমানে তার বাগানে ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিকের নিয়মিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা গ্রামীণ জীবিকায় নতুন গতি এনেছে।
নিজের সাফল্য সম্পর্কে মাজেদুল ইসলাম বলেন,“সঠিক পরিকল্পনা আর হাড়ভাঙা পরিশ্রম থাকলে কৃষি থেকেও অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। সামনে আরও নতুন জাতের ফল চাষের ইচ্ছে আছে।
”এলাকাবাসীর মতে, মাজেদুল ইসলামের এই উদ্যোগ বাঘারপাড়ার তরুণদের কৃষিমুখী করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং ভবিষ্যতে ফল চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।


























