ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতিবাদে প্রধান শিক্ষক অবরুদ্ধ

বঙ্গবাসী স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন শোকজ, তদন্ত শুরু

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা::
125

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার গত বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। তবে ওই দিন সরকারি ছুটি উপেক্ষা করে নগরীর খালিশপুরে অবস্থিত বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষকদের স্কুলে হাজির হতে নির্দেশ দেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। শিক্ষকরা জানান, স্কুলে উপস্থিত থাকতে বাধ্য হওয়ায় তারা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ঢাকায় গিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি।

বিদ্যালয় খোলা রাখা এবং শিক্ষকদের নিয়ে মিষ্টি খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে বিদ্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার পর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা (অনিক) এবং মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক কাজী মোঃ আবু কাইয়ুম স্বাক্ষরিত এক পত্রে প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে আগামী ৪ জানুয়ারি সকাল ১০টায় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে ৯৩ জনের স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে পদ থেকে অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি চলাকালে সাধারণ ছুটির দিনে বিদ্যালয় খোলা রাখা ছিল সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতা। তারা আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এক শিক্ষক কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভিডিওটি ভাইরাল হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

খুলনা মহানগরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ ফারুক হিল্টন বলেন, “সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের স্কুলে ডেকে কার্যক্রম পরিচালনা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালে প্রধান শিক্ষক তা স্বীকার না করে উল্টো খারাপ আচরণ করেন।”

খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তৌহিদুজ্জামান বলেন, “সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।”

এ বিষয়ে থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাঃ রোমানা ইয়াসমিন জানান, “শিক্ষক ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, তাদের জোরপূর্বক স্কুলে আসতে বাধ্য করা হয়েছিল।”

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ কামরুজ্জামান বলেন,
“রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটির দিনে এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।”

শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় প্রধান শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে শোকজ করা হয়েছে।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১০:২২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
৫৬৯ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতিবাদে প্রধান শিক্ষক অবরুদ্ধ

বঙ্গবাসী স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন শোকজ, তদন্ত শুরু

আপডেট সময় ১০:২২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
125

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার গত বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। তবে ওই দিন সরকারি ছুটি উপেক্ষা করে নগরীর খালিশপুরে অবস্থিত বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষকদের স্কুলে হাজির হতে নির্দেশ দেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। শিক্ষকরা জানান, স্কুলে উপস্থিত থাকতে বাধ্য হওয়ায় তারা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ঢাকায় গিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি।

বিদ্যালয় খোলা রাখা এবং শিক্ষকদের নিয়ে মিষ্টি খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে বিদ্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার পর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা (অনিক) এবং মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক কাজী মোঃ আবু কাইয়ুম স্বাক্ষরিত এক পত্রে প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে আগামী ৪ জানুয়ারি সকাল ১০টায় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে ৯৩ জনের স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে পদ থেকে অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি চলাকালে সাধারণ ছুটির দিনে বিদ্যালয় খোলা রাখা ছিল সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতা। তারা আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এক শিক্ষক কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভিডিওটি ভাইরাল হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

খুলনা মহানগরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ ফারুক হিল্টন বলেন, “সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের স্কুলে ডেকে কার্যক্রম পরিচালনা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালে প্রধান শিক্ষক তা স্বীকার না করে উল্টো খারাপ আচরণ করেন।”

খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তৌহিদুজ্জামান বলেন, “সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।”

এ বিষয়ে থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাঃ রোমানা ইয়াসমিন জানান, “শিক্ষক ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, তাদের জোরপূর্বক স্কুলে আসতে বাধ্য করা হয়েছিল।”

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ কামরুজ্জামান বলেন,
“রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটির দিনে এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।”

শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় প্রধান শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে শোকজ করা হয়েছে।