ঢাকা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদল শাখার আহ্বায়ক কতৃক শিক্ষক অপহরণে ইবিতে প্রশাসন ভবন অবরোধ

ইবি প্রতিনিধি::
85

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ট্যুরিজম হসপিটালিটি এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতিকে ইবির ছাত্রদল শাখার আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ অপহরণ করায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে  প্রশাসন ভবন অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেয়, “প্রশাসনের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন, আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন , গুণ্ডালীগের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন, দাদাগিরির বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন, পেশীশক্তির বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন,’আদু ভাই না ছাত্র, ছাত্র ছাত্র’, ‘লন্ডন না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, আমাদের সংগ্রাম চলছে চলবে” ইত্যাদি ইত্যাদি।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, আজ টিএইচএম বিভাগের প্রভাষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে সকাল ৮টার দিকে ঝিনাইদহের বাসা থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওয়ানা হন বিভাগের সভাপতি। এ সময় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাকে মোটরসাইকেলে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।

সকাল ১০টায় বোর্ড শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বে বিভাগের সভাপতি ছাড়াই নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। বোর্ডে লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং দুপুরে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জন উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অপহৃত বলে অভিযোগ ওঠা শিক্ষক বোর্ডে উপস্থিত হননি। যদিও সাহেদ আহম্মেদ দাবি করেন, তিনি ওই শিক্ষককে পরে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন।

শরিফুল ইসলামের পরিবার জানায়, সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বারবার কল আসায় অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিনি ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে বের হন। তারা ধারণা করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গাড়ি পাঠানো হয়েছে। তবে পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গাড়িচালক ফোন করে জানতে চান, তিনি তাকে নিতে আসছেন কি না—এতে তারা বিভ্রান্ত হন।

অভিযোগের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার অস্ত্রের মুখে বিভাগীয় সভাপতিকে তড়িঘড়ি করে নিয়োগ বোর্ড করতে চাপ দিচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেই তিনি নিজ দায়িত্বে তাকে নিয়ে যান এবং পরে বাড়িতে পৌঁছে দেন। তিনি অপহরণের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, “সকালে তিনি অসুস্থ বলে জানিয়েছেন। তাকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “তিনি (বিভাগীয় সভাপতি) অসুস্থতার কারণে আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছিলেন। নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা নিত। অপহরণের বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নিয়োগ বোর্ড কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।”

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৮:১৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
৫৪৫ বার পড়া হয়েছে

ছাত্রদল শাখার আহ্বায়ক কতৃক শিক্ষক অপহরণে ইবিতে প্রশাসন ভবন অবরোধ

আপডেট সময় ০৮:১৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
85

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ট্যুরিজম হসপিটালিটি এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতিকে ইবির ছাত্রদল শাখার আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ অপহরণ করায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে  প্রশাসন ভবন অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেয়, “প্রশাসনের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন, আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন , গুণ্ডালীগের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন, দাদাগিরির বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন, পেশীশক্তির বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন,’আদু ভাই না ছাত্র, ছাত্র ছাত্র’, ‘লন্ডন না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, আমাদের সংগ্রাম চলছে চলবে” ইত্যাদি ইত্যাদি।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, আজ টিএইচএম বিভাগের প্রভাষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে সকাল ৮টার দিকে ঝিনাইদহের বাসা থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওয়ানা হন বিভাগের সভাপতি। এ সময় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাকে মোটরসাইকেলে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।

সকাল ১০টায় বোর্ড শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বে বিভাগের সভাপতি ছাড়াই নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। বোর্ডে লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং দুপুরে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জন উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অপহৃত বলে অভিযোগ ওঠা শিক্ষক বোর্ডে উপস্থিত হননি। যদিও সাহেদ আহম্মেদ দাবি করেন, তিনি ওই শিক্ষককে পরে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন।

শরিফুল ইসলামের পরিবার জানায়, সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বারবার কল আসায় অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিনি ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে বের হন। তারা ধারণা করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গাড়ি পাঠানো হয়েছে। তবে পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গাড়িচালক ফোন করে জানতে চান, তিনি তাকে নিতে আসছেন কি না—এতে তারা বিভ্রান্ত হন।

অভিযোগের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার অস্ত্রের মুখে বিভাগীয় সভাপতিকে তড়িঘড়ি করে নিয়োগ বোর্ড করতে চাপ দিচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেই তিনি নিজ দায়িত্বে তাকে নিয়ে যান এবং পরে বাড়িতে পৌঁছে দেন। তিনি অপহরণের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, “সকালে তিনি অসুস্থ বলে জানিয়েছেন। তাকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “তিনি (বিভাগীয় সভাপতি) অসুস্থতার কারণে আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছিলেন। নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা নিত। অপহরণের বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নিয়োগ বোর্ড কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।”