ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোবিন্দগঞ্জে বাঁশের সাঁকোতেই ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল: স্থায়ী ব্রিজের দাবি জোরালো

গাইবান্ধা প্রতিনিধি::
83

 

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুকানুপুর ইউনিয়নের উত্তর ছয়ঘড়িয়া এলাকায় কাটাখালি নদীর ওপর কোনো স্থায়ী ব্রিজ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ—স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবীসহ সাধারণ জনগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন।

বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে সাঁকোটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সামান্য পিচ্ছিলতা বা বাতাসের তোড়ে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। স্থানীয়রা জানান, এই নদীর ওপারে রয়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতপথ। স্থায়ী ব্রিজের অভাবে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা গ্রহণ, চিকিৎসাসেবা ও দৈনন্দিন কাজে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, কাটাখালি নদীর এই ছয়ঘরিয়া খেয়াঘাট দিয়ে অন্তত ১২টি গ্রামের (উত্তর ছয়ঘরিয়া, মথুরাপুর, সুন্দইল, পারসুন্দইল, গুচ্ছগ্রাম, হঠাৎপাড়া, চড়পাড়া, নয়াপাড়া, চৌরপাড়া, কানিপাড়া, রামনাথপুরসহ অন্যান্য) কয়েক হাজার মানুষ যুগ যুগ ধরে ভোগান্তির শিকার। সরকারি উদ্যোগের অভাবে তারা নিজেরাই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল চালিয়ে যাচ্ছেন, যা একধরনের নীরব প্রতিবাদও বটে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, দ্রুত কাটাখালি নদীর ওপর একটি স্থায়ী ও টেকসই ব্রিজ নির্মাণ করা হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে। তারা স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (যেমন: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর – এলজিইডি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, এলাকাবাসীর দাবি যৌক্তিক এবং দ্রুত সমীক্ষা করে প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কংক্রিট পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

এই ধরনের অবহেলা অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এই জরুরি বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৫:৫১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৫৪৮ বার পড়া হয়েছে

গোবিন্দগঞ্জে বাঁশের সাঁকোতেই ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল: স্থায়ী ব্রিজের দাবি জোরালো

আপডেট সময় ০৫:৫১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
83

 

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুকানুপুর ইউনিয়নের উত্তর ছয়ঘড়িয়া এলাকায় কাটাখালি নদীর ওপর কোনো স্থায়ী ব্রিজ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ—স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবীসহ সাধারণ জনগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন।

বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে সাঁকোটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সামান্য পিচ্ছিলতা বা বাতাসের তোড়ে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। স্থানীয়রা জানান, এই নদীর ওপারে রয়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতপথ। স্থায়ী ব্রিজের অভাবে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা গ্রহণ, চিকিৎসাসেবা ও দৈনন্দিন কাজে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, কাটাখালি নদীর এই ছয়ঘরিয়া খেয়াঘাট দিয়ে অন্তত ১২টি গ্রামের (উত্তর ছয়ঘরিয়া, মথুরাপুর, সুন্দইল, পারসুন্দইল, গুচ্ছগ্রাম, হঠাৎপাড়া, চড়পাড়া, নয়াপাড়া, চৌরপাড়া, কানিপাড়া, রামনাথপুরসহ অন্যান্য) কয়েক হাজার মানুষ যুগ যুগ ধরে ভোগান্তির শিকার। সরকারি উদ্যোগের অভাবে তারা নিজেরাই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল চালিয়ে যাচ্ছেন, যা একধরনের নীরব প্রতিবাদও বটে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, দ্রুত কাটাখালি নদীর ওপর একটি স্থায়ী ও টেকসই ব্রিজ নির্মাণ করা হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে। তারা স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (যেমন: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর – এলজিইডি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, এলাকাবাসীর দাবি যৌক্তিক এবং দ্রুত সমীক্ষা করে প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কংক্রিট পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

এই ধরনের অবহেলা অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এই জরুরি বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।