ঢাকা ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণভোট প্রচারে দেরিতে ঘুম ভাঙলো ইসি’র

চেকপোস্ট ডেস্ক::
96

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণার আটদিন পার হয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান না নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। অর্থাৎ, সরকারি কর্মচারীরা এখন থেকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো পক্ষেই প্রকাশ্যে প্রচার চালাতে পারবেন না।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এতদিন কোথায় ছিল নির্বাচন কমিশন?
কারণ, গত প্রায় এক মাস ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকাশ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে ব্যানার, ফেস্টুন লাগিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এমনকি মোবাইল ফোন অপারেটরদের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে একাধিকবার বার্তা পাঠিয়ে বলা হয়, “পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ ভোট দিন” কিংবা “দেশের সম্পদ পাচার রোধে গণভোটে হ্যাঁ বলুন”।

এ অবস্থায় হঠাৎ করে ইসি’র চিঠি আসায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন,  সরকারি কর্মচারীদের এ ধরনের প্রচার যদি আইনসম্মত না হয়, তবে কমিশন এতদিন নীরব ছিল কেন?

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে ধরনের অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রযোজ্য, গণভোটের ক্ষেত্রেও তা কার্যকর হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ অনুযায়ী, এসব অপরাধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আরপিও’র ৮৬ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি যদি সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তবে তিনি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর ও সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

এদিকে, ইসি’র এই উদ্যোগ নিয়ে নাগরিক সমাজেও প্রশ্ন উঠেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “মাঝপথে কেন নির্বাচন কমিশন এ ধরনের চিঠি দিয়েছে, সে প্রশ্ন সরকারকেই করতে হবে। একদিকে প্রচার চলবে, অন্যদিকে চিঠি দিয়ে বলা হবে আইন অনুযায়ী করা যাবে না, এটা পরস্পরবিরোধী ও সাংঘর্ষিক।”

ইসি’র চিঠি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গতকাল রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ বলেন, “আমাদের কাছে এখনো এ ধরনের কোনো চিঠি পৌঁছায়নি। সারাদিন ক্যাবিনেট মিটিংয়ে থাকায় বিষয়টি জানা হয়নি।”

একই ধরনের বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ। তিনি জানান, “এখনো নির্বাচন কমিশনের কোনো চিঠি পাইনি। তবে চিঠি পাওয়ার পর সরকার ও ইসি’র মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।”

সব মিলিয়ে, গণভোটের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নির্বাচন কমিশনের এই বিলম্বিত পদক্ষেপ জনমনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৮:৫১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
৫৫৩ বার পড়া হয়েছে

গণভোট প্রচারে দেরিতে ঘুম ভাঙলো ইসি’র

আপডেট সময় ০৮:৫১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
96

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণার আটদিন পার হয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান না নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। অর্থাৎ, সরকারি কর্মচারীরা এখন থেকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো পক্ষেই প্রকাশ্যে প্রচার চালাতে পারবেন না।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এতদিন কোথায় ছিল নির্বাচন কমিশন?
কারণ, গত প্রায় এক মাস ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকাশ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে ব্যানার, ফেস্টুন লাগিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এমনকি মোবাইল ফোন অপারেটরদের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে একাধিকবার বার্তা পাঠিয়ে বলা হয়, “পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ ভোট দিন” কিংবা “দেশের সম্পদ পাচার রোধে গণভোটে হ্যাঁ বলুন”।

এ অবস্থায় হঠাৎ করে ইসি’র চিঠি আসায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন,  সরকারি কর্মচারীদের এ ধরনের প্রচার যদি আইনসম্মত না হয়, তবে কমিশন এতদিন নীরব ছিল কেন?

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে ধরনের অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রযোজ্য, গণভোটের ক্ষেত্রেও তা কার্যকর হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ অনুযায়ী, এসব অপরাধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আরপিও’র ৮৬ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি যদি সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তবে তিনি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর ও সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

এদিকে, ইসি’র এই উদ্যোগ নিয়ে নাগরিক সমাজেও প্রশ্ন উঠেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “মাঝপথে কেন নির্বাচন কমিশন এ ধরনের চিঠি দিয়েছে, সে প্রশ্ন সরকারকেই করতে হবে। একদিকে প্রচার চলবে, অন্যদিকে চিঠি দিয়ে বলা হবে আইন অনুযায়ী করা যাবে না, এটা পরস্পরবিরোধী ও সাংঘর্ষিক।”

ইসি’র চিঠি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গতকাল রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ বলেন, “আমাদের কাছে এখনো এ ধরনের কোনো চিঠি পৌঁছায়নি। সারাদিন ক্যাবিনেট মিটিংয়ে থাকায় বিষয়টি জানা হয়নি।”

একই ধরনের বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ। তিনি জানান, “এখনো নির্বাচন কমিশনের কোনো চিঠি পাইনি। তবে চিঠি পাওয়ার পর সরকার ও ইসি’র মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।”

সব মিলিয়ে, গণভোটের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নির্বাচন কমিশনের এই বিলম্বিত পদক্ষেপ জনমনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।